২০১৯ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশ-এ ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে গোটা দেশ। সোনাগাজীর এক মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় নির্মমভাবে হত্যাচেষ্টার শিকার হন। এই ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দায়ের করার পর থেকেই নুসরাত ও তার পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষার দিন তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসার ছাদে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে ১০ এপ্রিল তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
“আমরা এই নৃশংস ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো নুসরাতের জীবন এভাবে ঝরে না যায়।” — এক বিক্ষুব্ধ নাগরিক
“আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে।” — আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা
ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ পুলিশ ও পিবিআই যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়। দেশব্যাপী মানববন্ধন, প্রতিবাদ ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে ওঠে।
নুসরাত জাহান রাফির এই মর্মান্তিক ঘটনা বাংলাদেশ-এ নারী নিরাপত্তা, বিচারহীনতা এবং সামাজিক সচেতনতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে। দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ বন্ধের দাবি এখন সর্বস্তরের মানুষের।