টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ফের সংঘর্ষ: হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে আতঙ্ক
টাঙ্গাইল, ৫ জুন ২০২৬: টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সংঘর্ষের পটভূমি
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গোপালপুর উপজেলার গোলপেঁচা গ্রাম এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া (বা জগৎপুরা) গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পূর্বের বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিকেলে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে জগৎকুড়া গ্রামের কালাম তালুকদার (৬৫) নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।
১৪৪ ধারা জারি
পরিস্থিতির অবনতি এবং নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কায় প্রশাসন বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়ন ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। এই আদেশের আওতায় সকল ধরনের জমায়েত, মিছিল ও সংঘর্ষমূলক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়।
১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে নতুন হামলা
তবে শুক্রবার সকালে ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকার পরও নলীন বাজার ও জগৎকুড়া এলাকায় নতুন করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালায়, অগ্নিসংযোগ করে এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালায়। এতে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংঘর্ষের আগের রাতে মাইকিং করে লোকজনকে দেশীয় অস্ত্রসহ জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
প্রশাসনের বক্তব্য
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল জোরদার করেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রশাসন স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সংক্ষিপ্ত তথ্য