বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২০২৬ সালে ৪২,৫৯০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তার আগের ২৪ ঘণ্টাতেই ১,৫৫৮ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি এবং ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে—এটি তখন পর্যন্ত বছরের সর্বোচ্চ দৈনিক ভর্তি সংখ্যা।
🦟 সেপ্টেম্বর আরও ভয়াবহ হতে পারে
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ডেঙ্গুর প্রকৃত শীর্ষ পরিস্থিতি এখনও আসেনি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ৩০,০০০-এর বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হতে পারেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়তে পারে।
🏥 হাসপাতালগুলোতে শয্যার সংকট
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় বিশেষ করে ঢাকার হাসপাতালগুলোতে বেডের সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকার হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ছে।
একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত একটি শিশুকে নিয়ে তার বাবা তিনটি সরকারি হাসপাতালে ঘুরেও বেড পাননি। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে বেড পাওয়া যায় এবং শিশুটিকে রক্ত ও প্লাজমা দিতে হয়।
⚠️ ডেঙ্গু ও হাম—দুই সংকটে স্বাস্থ্যব্যবস্থা
বাংলাদেশ একই সময়ে আরেকটি বড় হাম (measles) প্রাদুর্ভাবের মুখোমুখি। ফলে হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ও হাম—দুই ধরনের রোগীর চাপ একসঙ্গে তৈরি হয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বরের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪৫,০০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং এক দিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৯ জনে ও দৈনিক ভর্তি ১,৫৭১ জনে পৌঁছেছিল।
🌧️ কেন ডেঙ্গু বাড়ছে?
ডেঙ্গু ছড়ায় মূলত Aedes মশার মাধ্যমে। বর্ষার পানি জমে থাকা, বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকা এবং উষ্ণ-আর্দ্র আবহাওয়া মশার বংশবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা শুধু fogging-এর ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।